08/02/2026
রক্ষক যখন ভক্ষক!
ফেব্রুয়ারি মাসের ৮ তারিখ আমি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম। আমার সমস্যা শোনার পর আমাকে ৩০৮ নম্বর রুমে পাঠানো হয়। সিরিয়াল মেনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি। সকাল দশটার দিকে ডাক্তার আসেন। প্রথমে কিছু রোগী দেখার পর তিনি কয়েকজন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে রুমের বাইরে চলে যান।
(আমি জানি না—সরকারি হাসপাতালে রোগী লাইনে দাঁড়িয়ে রেখে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের সঙ্গে কথা বলা আদৌ নিয়মের মধ্যে পড়ে কি না?)
কিছুক্ষণ পর তিনি আবার ফিরে এসে রোগী দেখা শুরু করেন। লক্ষ করলাম, তিনি বেশ সময় নিয়ে, সিরিয়াসভাবে রোগী দেখছেন। সাধারণত সরকারি হাসপাতালে ডাক্তাররা রোগীর পেছনে এত সময় দেন না—এটাই আমাদের প্রচলিত অভিযোগ। তাই মনে মনে একটু খুশিই হলাম।
এরপর যখন আমার পালা এলো, আমি ভেতরে গিয়ে সব কথা খুলে বললাম। তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো—কোনো কনসালটেন্সি বা পরিষ্কার চিকিৎসা পরিকল্পনা না দিয়ে তিনি হঠাৎ তার ব্যক্তিগত চেম্বারের বিজ্ঞাপন শুরু করলেন।
বললেন, “আপনার সমস্যাটা ভালো করে দেখতে হবে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার”—এমন আরও কিছু কথা বলে আমার হাতে দুইটা ভিজিটিং কার্ড ধরিয়ে দিলেন। জানালেন, সেখানে গেলে ভালোভাবে চিকিৎসা করা যাবে।
আমি তো আর ডাক্তারের মতো এত উচ্চশিক্ষিত মানুষ নই—সবকিছু বুঝব এমন দাবিও করি না। তাই ভিজিটিং কার্ড দুটির ছবি তুলে রাখলাম। উনার একটু মার্কেটিংও হয়ে গেল, আমারও একটু জানা হলো।
এখন প্রশ্ন হলো—সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালের মাধ্যমে রোগী প্রাইভেট ক্লিনিকে ট্রান্সফার করা যদি অপরাধ হয়, তাহলে একজন ডাক্তার নিজেই যদি সরকারি ডিউটির সময় নিজের চেম্বারের মার্কেটিং করে রোগী নিয়ে যান, সেটার নাম কী?
এত বড় একটি মেডিকেল কলেজ, এত সিনিয়র প্রফেসর, আধুনিক মেডিকেল ইন্সট্রুমেন্ট—সব থাকার পরও একজন ডাক্তার (দাড়িওয়ালা, সুন্দর হাসি, ইসলামিক লেবাসধারী, সমাজে ভদ্র বলে পরিচিত মানুষ) সরকারি হাসপাতালের ব্র্যান্ড ও পরিচয় ব্যবহার করে ডিউটিরত অবস্থায় নিজের ব্যক্তিগত ভিজিটিং কার্ড বিলি করেন—এটা কতটা নৈতিক?
যেখানে তার দায়িত্ব ছিল এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেবা দেওয়া, সেখানে তিনি রোগীকে নিজের প্রাইভেট চেম্বারে নিয়ে যাচ্ছেন।
আমার ছোট মনে একটা সোজা প্রশ্ন—
যদি সরকারি চাকরি না পোষায়, তাহলে চাকরি ছেড়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করুন।
আপনার জায়গায় হয়তো সত্যিকারের একজন ডাক্তার আসবে।
আর আমরা “ডাক্তার নামের ---” এমন কিছু মানুষের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে পারব।
#চট্টগ্রাম #ওডাক্তার #কসাই